মার্কিন শেয়ারে উল্লম্ফন, এশিয়ায় মিশ্র প্রবণতা

ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৫ – বিশ্ব পুঁজিবাজার এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সোমবার মার্কিন শেয়ার বাজারে বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে। দুর্বল চাকরির তথ্য এবং সুদের হার কমার প্রত্যাশা এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ। এই তেজিভাবের ইতিবাচক প্রভাব আজ এশিয়ার শেয়ার বাজারেও দেখা গেছে, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির আশঙ্কায় কিছু বাজারে সতর্কতাও ছিল।

মার্কিন বাজারে এই তেজিভাবের প্রধান কারণ ছিল ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশাবাদ। সম্প্রতি প্রকাশিত চাকরির তথ্য থেকে দেখা গেছে, শ্রমবাজার কিছুটা শীতল হচ্ছে। এর ফলে বাজারের মধ্যে এই ধারণা জোরদার হয়েছে যে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর কথা ভাবতে পারে। এই প্রত্যাশা শেয়ারের মূল্য বাড়িয়েছে। সোমবারের লেনদেনে ডাও জোন্স ১.৩৪%, S&P 500 ১.৪৭% এবং নাসডাক ১.৯৫% বেড়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের বড় বড় কোম্পানি, যেমন Nvidia এবং Meta Platforms-এর শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সার্বিক বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করেছে।

মার্কিন বাজারের এই ইতিবাচক ধারা এশিয়ার বাজারেও সঞ্চারিত হয়েছে, কিন্তু প্রবণতা ছিল মিশ্র। জাপানের Topix সূচক ০.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রধানত প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের কারণে ঘটেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার KOSPI সূচকও ১.৫% বেড়েছে, কারণ সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, ভারতের শেয়ার বাজার আজ কিছুটা সতর্ক অবস্থানে ছিল। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণার ফলে ভারতের রপ্তানি খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হংকং-এর হ্যাং সেং (Hang Seng) সূচকে আজ সামান্য পরিবর্তন দেখা গেছে, যা চীনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে নির্দেশ করে।

ইউরোপের শেয়ার বাজারও এই তেজিভাবে শামিল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেজিভাব এবং সুদের হার কমার আশাবাদ এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ। Euro Stoxx 50 সূচক ১.৩% পর্যন্ত বেড়েছে। এই সময়ে, বিশ্বব্যাপী বন্ড মার্কেটে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে জাপানে ১০ বছরের বন্ডের ইল্ড (yield) কমেছে, যা মুদ্রানীতির ওপর একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একজন বাজার বিশ্লেষক বলেন, “বাজার এখন দু’দিকে টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। একদিকে, সুদের হার কমার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করছে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক উত্তেজনা এখনো ঝুঁকি হিসেবে কাজ করছে।” তিনি আরও বলেন, এই সপ্তাহে মার্কিন চাকরির আরও তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের মন্তব্য বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সব মিলিয়ে, এই সপ্তাহের শুরুটা বিশ্ব পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক ছিল, তবে এই তেজিভাব কতটুকু স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে সামনে আসা অর্থনৈতিক তথ্যের ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *