জাপানের সঙ্গে ট্রাম্পের ‘ঐতিহাসিক’ বাণিজ্য চুক্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানের সঙ্গে একটি “বিশাল” বাণিজ্য চুক্তি সই করেছেন, যা তিনি “সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুক্তি” বলে দাবি করেছেন। এই চুক্তির আওতায় জাপানি পণ্যের ওপর ১৫% শুল্ক ধার্য করা হবে। জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

মঙ্গলবার (২২শে জুলাই, ২০২৫) ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করেন যে, এই চুক্তির ফলে জাপানি আমদানির ওপর ১৫% শুল্ক আরোপিত হবে, যা পূর্বে ঘোষিত ২৫% শুল্কের চেয়ে কম। এই চুক্তিতে জাপান মার্কিন গাড়ি, ট্রাক, চাল এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যের জন্য তাদের বাজার উন্মুক্ত করবে।

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, তার নির্দেশনায় জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, যার ৯০% মুনাফা যুক্তরাষ্ট্র পাবে। যদিও এই অস্বাভাবিক বিনিয়োগ কাঠামোর বিস্তারিত বিবরণ এখনো স্পষ্ট নয়, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে এটি লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

চুক্তির প্রধান দিকগুলো :

  • ১৫% শুল্ক: চুক্তির আওতায় জাপানি আমদানির ওপর ১৫% শুল্ক ধার্য করা হবে, যা পূর্বে ঘোষিত ২৫% শুল্কের চেয়ে কম।
  • বিশাল বিনিয়োগ: ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, যার ৯০% মুনাফা যুক্তরাষ্ট্র পাবে।
  • বাজার উন্মুক্তকরণ: জাপান মার্কিন গাড়ি, ট্রাক, চাল এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যের জন্য তাদের বাজার উন্মুক্ত করবে।
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি: ট্রাম্পের মতে, এই বিনিয়োগ লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
  • জাপানের স্বস্তি: এই চুক্তি জাপানের জন্য স্বস্তির কারণ, কারণ তারা ১লা আগস্টের মধ্যে ২৫% শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে রক্ষা পেয়েছে।
  • বিতর্ক: মার্কিন অটোমোবাইল নির্মাতারা ১৫% শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এটি তাদের নিজস্ব উচ্চ শুল্কের তুলনায় অসুবিধাজনক হতে পারে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগরু ইশিবা প্রাথমিকভাবে চুক্তির বিবরণ খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন। তবে জাপানের প্রধান বাণিজ্য আলোচক রিয়োসেই আকাজাওয়া ফেসবুকে “মিশন সম্পন্ন” উল্লেখ করে হোয়াইট হাউসে তার সফরের ছবি পোস্ট করেছেন। জাপানি কর্মকর্তাদের মতে, এই চুক্তিতে জাপানি গাড়ির ওপর ২৫% শুল্ক কমিয়ে ১৫% করা হবে, যা জাপানের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক দিক।

তবে, এই চুক্তি নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল নির্মাতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, জাপানি গাড়ির ওপর ১৫% শুল্ক তাদের নিজস্ব ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্কের তুলনায় একটি অসুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্পের এই চুক্তির ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন তার প্রশাসন ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গেও শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনায় নিয়োজিত। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রশাসন ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও সম্প্রতি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যেখানে যথাক্রমে ১৯% শুল্ক আরোপিত হয়েছে।

এই চুক্তি জাপানের জন্য একটি স্বস্তির কারণ, কারণ তারা ১লা আগস্টের মধ্যে ২৫% শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবে, এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং উভয় দেশের অর্থনীতিতে এর সম্পূর্ণ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *