চিলির বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ তামা খনি ‘এল তেনিয়েন্তে’-তে (El Teniente) ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় আটকে পড়া পাঁচ শ্রমিকের সবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলা এক বিশাল উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি হলো। এই ঘটনায় খনি শিল্পে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং খনি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার, একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের কারণে এই খনির একটি অংশের টানেল ভেঙে পড়ে। প্রথমে একজন শ্রমিকের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং পাঁচজন শ্রমিক ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। এরপরই জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ১০০ জন উদ্ধারকর্মী একটি দল গঠন করে তাদের উদ্ধারে নামে। তাদের মধ্যে অনেকেই ২০১০ সালে সান হোসে (San José) খনিতে ৩৩ জন শ্রমিককে সফলভাবে উদ্ধারের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছিলেন।
উদ্ধারকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে টানেলের প্রবেশপথ থেকে ধ্বংসস্তূপ সরাতে শুরু করে। প্রথম দিকে, তারা আশা করেছিলেন যে আটকে পড়া শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আশা ফিকে হতে থাকে। শনিবার প্রথম নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং রোববার বাকি তিনজনের মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়। সবশেষে, রোববার রাতে শেষ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে মোট পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো মোট ছয়জনে, কারণ ঘটনার দিনই আরও একজন শ্রমিক মারা গিয়েছিলেন।
চিলির রাষ্ট্রীয় খনি সংস্থা কোডেলকো (Codelco), যারা এল তেনিয়েন্তে খনি পরিচালনা করে, এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ম্যাক্সিমো পাচেকো সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। একই সাথে, তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই দুর্ঘটনার পর খনির ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক নিহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশের জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। যদিও চিলির খনি শিল্পকে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ বলে মনে করা হয়, তবে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে খনি খনন কার্যক্রমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা প্রয়োজন। এই দুর্ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে তামা সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ চিলি বিশ্বের বৃহত্তম তামা উৎপাদনকারী দেশ।
