মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। ভারত ও তাইওয়ানের মতো বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর যথাক্রমে ২৫% ও ২০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ১৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসায় দেশটির শেয়ার বাজারে প্রায় ৪% পতন হয়েছে। যদিও ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর তাদের শুল্ক হার ৪৬% থেকে কমিয়ে ২০% করতে সক্ষম হয়েছে। সিঙ্গাপুরের শুল্কহার অপরিবর্তিত রয়েছে, যা ১০%।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই শুল্কের চাপ সামলাতে বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেক দেশ এখন বিকল্প বাজার খুঁজছে। বাংলাদেশ তার রপ্তানি বাড়াতে চীন ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিতে চাইছে। চীন ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিবাচক খবর।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য মানচিত্র বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে থাইল্যান্ড একটি বিশাল ‘ল্যান্ড ব্রিজ’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে মালাক্কা প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমে আসবে, যা বিশ্ব বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন শুল্কনীতি এবং সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এশিয়ার শেয়ার বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জাপানের নিক্কেই (Nikkei 225) এবং অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ (S&P/ASX 200) সূচক নিম্নমুখী থাকলেও হংকং-এর হ্যাং সেং (Hang Seng) এবং সাংহাই কম্পোজিট (Shanghai Composite) সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। ভারত ও তাইওয়ানের ওপর শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের শেয়ার বাজারেও অস্থিরতা রয়েছে।
মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানের ইয়েন দুর্বল হচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ এবং এআই-এর বিকাশে এশিয়ার বেশ কিছু টেকনোলজি কোম্পানি ভালো পারফর্ম করছে। বিশেষ করে নিনটেন্ডো-এর নতুন গেমিং কনসোল ‘সুইচ ২’-এর বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে, যা তাদের শেয়ারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সও একটি বড় সেমিকন্ডাক্টর চুক্তির ঘোষণা দেওয়ায় তাদের শেয়ারের দাম ৬.৮% বেড়েছে।
