জরুরি অবস্থা কাটিয়ে নির্বাচনের দিকে মিয়ানমার!

ইয়াঙ্গুন, ৫ আগস্ট, ২০২৫ – মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দেশজুড়ে জারি করা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর পর দেশটিতে জরুরি অবস্থার সমাপ্তি ঘটল। একই সঙ্গে সামরিক প্রশাসন এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপকে অনেকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। সেই সময় থেকেই মিয়ানমারজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা, যাদের মধ্যে অনেক তরুণ-তরুণীও আছেন, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই প্রতিরোধ আন্দোলনে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।

সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল এবং জরুরি অবস্থার আর কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের দাবি, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট উন্নত। তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি আসলে আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর এবং তাদের শাসনের বৈধতা দেওয়ার একটি কৌশল।

জান্তা সরকার এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা সম্ভবত এই বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এই নির্বাচন কতটুকু অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, তা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে। কারণ, সামরিক জান্তা অং সান সু চির রাজনৈতিক দল, ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (NLD)-কে নিষিদ্ধ করেছে এবং সু চিসহ দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নির্বাচনকে বৈধতা দিতে সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক বিরোধী এবং সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচন কেবল সামরিক জান্তার ক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে। এটি আন্তর্জাতিক মহলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর একটি চেষ্টা। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা এই নির্বাচন বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, সামরিক শাসনের অধীনে কোনো নির্বাচনই জনগণের সত্যিকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *