ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে নতুন মোড়

ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৫ – দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম ক্ষমতাধর দেশ ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে বর্তমানে দুটি ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোকে গৃহবন্দি করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট, অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট শত শত বন্দীকে মুক্তি দিয়েছেন, যা তার ‘ঐক্য পরিকল্পনা’র অংশ। এই দুটি ঘটনাই দেশ দুটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্ডার ডি মোরেস, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোকে গৃহবন্দি করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, বোলসোনারো এমন একটি অপরাধী চক্রের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যা ২০২২ সালের নির্বাচনে তার পরাজয়ের পর নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হতে পারে।

২০২২ সালের নির্বাচনের পর তার সমর্থকরা সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছিল, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, এই হামলার পেছনে বোলসোনারোর প্রত্যক্ষ মদদ ছিল। তবে বোলসোনারোর আইনজীবীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলছেন যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বোলসোনারো নিজে এই নির্দেশের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তার সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তাদের দাবি, বামপন্থী সরকারের পক্ষ থেকে এটি একটি প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ। এই ঘটনা ব্রাজিলের রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

ইন্দোনেশিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর তার ‘ঐক্য পরিকল্পনা’র অংশ হিসেবে শত শত রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিয়েছেন। এর মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোর আমলে আটক হওয়া বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীও রয়েছেন। এই পদক্ষেপকে দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিভাজন কমানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ দেশের ভেতরে এবং বাইরে প্রশংসিত হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে এটি ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। নতুন প্রেসিডেন্ট তার প্রথম বক্তৃতায় বলেছিলেন, “আমার লক্ষ্য হলো দেশকে একত্রিত করা এবং অতীতের বিভাজন ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়া। আমি বিশ্বাস করি, সব ইন্দোনেশীয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, তাহলেই আমরা সমৃদ্ধি লাভ করব।”

তবে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে, যাতে রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষকে শান্ত করা যায়। তা সত্ত্বেও, এই পদক্ষেপ ইন্দোনেশিয়ার জনগণের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে, যারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে স্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে।

এই দুটি ঘটনা দেখায় যে, বর্তমানে বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। যেখানে ব্রাজিলে একজন সাবেক নেতার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলার অভিযোগ উঠেছে, সেখানে ইন্দোনেশিয়ায় নতুন নেতৃত্ব ঐক্য ও ক্ষমার বার্তা দিয়ে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *