তিউনিসিয়া থেকে ১৯ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি অভিবাসী স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে একটি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সম্মিলিত সহায়তায় এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশের আশায় তিউনিসিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। মানবপাচারকারীদের প্রলোভন ও সহায়তায় তারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তিউনিসিয়ায় অবস্থানকালে তাদের অনেকেই অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।
বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএম-এর কর্মকর্তারা ফিরে আসা অভিবাসীদের স্বাগত জানান। কর্তৃপক্ষ তাদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতার কথা অন্যদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ করেছে, যাতে অবৈধ অভিবাসন পথের বিপদ এবং অমানবিক যন্ত্রণা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং অন্য কেউ যেন এমন বিপজ্জনক যাত্রার চেষ্টা না করে।
আইওএম প্রতিটি ফিরে আসা ব্যক্তিকে নগদ ৬,০০০ টাকা সহায়তা, খাদ্য সামগ্রী, চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিউনিসিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে (আটক কেন্দ্র) বর্তমানে আরও অনেক বাংলাদেশি নাগরিক আটক রয়েছেন। তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা সম্প্রতি বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
