ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৫ – বিশ্ব মুদ্রা বাজারে আজ এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। মার্কিন ডলারের সূচকে বড় ধরনের পতন হয়েছে, আর তার বিপরীতে জাপানি ইয়েনের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই পরিবর্তনটি মূলত মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার কমার প্রত্যাশার কারণে ঘটেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন ডলারের এই পতনের পেছনে প্রধান কারণ হলো সম্প্রতি প্রকাশিত দুর্বল চাকরির তথ্য। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার কিছুটা শীতল হচ্ছে। সাধারণত, যখন কোনো দেশের অর্থনীতিতে এমন মন্দার লক্ষণ দেখা যায়, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করে। সুদের হার কমানো হলে সেই দেশের মুদ্রা বিনিয়োগকারীদের কাছে কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, কারণ তারা বন্ড বা অন্যান্য আর্থিক উপকরণে কম মুনাফা পায়। এর ফলে ডলারের মতো নিরাপদ মুদ্রার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা অন্যান্য মুদ্রার দিকে ঝুঁকেছে।
ডলারের এই দুর্বলতার সরাসরি সুবিধা পেয়েছে জাপানি ইয়েন। ডলারের সূচক পতনের কারণে জাপানি ইয়েনের মূল্য ০.২% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উত্থান জাপানের জন্য একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি ইয়েনের দুর্বলতার কারণে জাপানে আমদানি করা খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল, যা সাধারণ জাপানি পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। এখন ইয়েনের মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় আমদানির খরচ কমবে, যা খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে, জাপানের অর্থনীতি মূলত রপ্তানিনির্ভর হওয়ায় দুর্বল ইয়েন রপ্তানিকারকদের জন্য লাভজনক ছিল। তাই ইয়েনের মূল্যবৃদ্ধি হলে রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একজন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, “মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে জাপান এখন এক উভয়সংকটে পড়েছে। একদিকে, শক্তিশালী ইয়েন অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে, অন্যদিকে তা রপ্তানি খাতকে দুর্বল করতে পারে।” তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে জাপান ব্যাংককে খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে।
ডলারের পতনের কারণে শুধু ইয়েনই নয়, ইউরোপের মুদ্রা ইউরোর মূল্যও ০.১% বেড়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, বৈশ্বিক মুদ্রা বাজার এখন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। আগামীতে যদি ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর ঘোষণা দেয়, তাহলে ডলার আরও দুর্বল হতে পারে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে তিন দিনের পতন শেষে তেলের দাম আজ কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে, রাশিয়ার তেলের সরবরাহ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার হুমকি এখনো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে রেখেছে। এই পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির গতিপথকে আরও জটিল করে তুলছে।
